দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী সপ্তাহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। আগামী ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কথিত অবৈধ ও নথিবিহীন বাংলাদেশিদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগের মধ্যেই এ বৈঠক হতে যাচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বিএসএফ কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুহম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে বিএসএফের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন বাহিনীটির মহাপরিচালক প্রবীন কুমার।
বাংলাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই বিজিবি-বিএসএফের প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বসবাসরত কথিত নথিবিহীন বাংলাদেশিদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর এবং বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তর করেছে। অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত হলে তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও কাঁটাতারবিহীন। এ অংশের প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার এলাকায় ভৌগোলিক ও অন্যান্য কারণে কাঁটাতার নির্মাণ সম্ভব নয়। ফলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।
বিএসএফ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অপরাধ দমন এবং দুই বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোই বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একসময় দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে দুই দেশই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে।
এমএস/